বই পরিচিতি
নেহাল মানুষটা অদ্ভুত ধরনের। পেশায় নিউরোলজিস্ট- মাথার ভেতরের গোলকধাঁধা নিয়ে তার সারাদিন কাটে। কথা কম বলেন, ভাবেন বেশি। ইলা ঠিক উল্টো। সে রঙ নিয়ে থাকে, ক্যানভাসে আকাশ বানায়, কখনো বৃষ্টি নামায়। নেহাল মস্তিষ্ক বোঝেন, ইলা হৃদয়। তবু কীভাবে যেন দুজনের দেখা হয়ে যায় মাঝপথে।
তারপর একদিন নেহাল বদলে গেলেন। ইলার চোখে নিজেকে ছোট করে দিলেন ইচ্ছে করেই। এমন কিছু করলেন, যাতে ইলা তাকে ঘৃণা করে। কারণ নেহাল জানতেন- শোক মানুষকে ভেঙে দেয়, কিন্তু ঘৃণা মানুষকে দাঁড় করিয়ে রাখে।
দশ বছর পর নেহাল আর নেই। ইলার ছোট মেয়ে একদিন ‘নিউরোলজি ফাউন্ডেশন’-এর লোগোর ভেতর ছোট্ট একটা বকুল ফুল খুঁজে পেল। ইলার প্রিয় ফুল। পুরোনো ডায়েরি থেকে ঝরে পড়ল শুকনো বকুল। ইলা চুপ করে বসে রইল। সে বুঝল, নেহাল তাকে ছেড়ে যাননি- শুধু আড়াল হয়েছিলেন। ভালোবাসা কখনো কখনো খুব নীরব হয়।
লেখক পরিচিতি
ডা. ফাহিম আল ফয়সাল, পিতা: মরহুম মোজাম্মেল হক পাটোয়ারী, মাতা: নাসিমা আক্তার, ঠিকানা: চাঁদপুর জেলা।
পেশাগত জীবনে, ডা. ফাহিম আল ফয়সাল, নিউরোলজি ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ সময় স্নায়ুবিজ্ঞান এবং মানুষের মস্তিষ্কের জটিল ক্রিয়াকলাপের খুব কাছাকাছি থাকার সুবাদে তিনি বিজ্ঞানের নিরেট যুক্তির ভেতরেও খুঁজে পেয়েছেন এক গভীর সৃজনশীলতা।
তার কাছে বিজ্ঞান মানে কেবল কিছু নিস্পৃহ তথ্য নয়, বরং মানুষের প্রতিটি আবেগ আর অনুভূতির পেছনে রয়েছে কোটি কোটি নিউরনের এক রোমাঞ্চকর পথচলা। সেই অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান এবং গভীর জীবনবোধ থেকেই জন্ম নিয়েছে তার প্রথম গ্রন্থ ‘নিউরনের রোমাঞ্চ’।
বিজ্ঞানের প্রখরতা আর সাহিত্যের নমনীয়তাকে এক সুতোয় বেঁধে তিনি পাঠককে এক নতুন জগতের সন্ধান দিতে ভালোবাসেন। মানুষের মনস্তাত্ত্বিক রহস্য উন্মোচন এবং সাহিত্যচর্চাই লেখকের মূল প্রেরণা।

